জনস্বাস্থ্য নিয়ে ভয়ংকর খেলা, প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ
উখিয়ার কুতুপালং বাজারের পশ্চিম পাশে লম্বাশিয়া সড়কে অবস্থিত একটি কথিত “মেডিকেল ট্রেনিং সেন্টার” ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি DMS, BMS, LMFসহ বিভিন্ন নামে চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করছে এবং প্রশিক্ষণার্থীদের আইডি কার্ড ও সনদপত্র প্রদান করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কথিত রোহিঙ্গা ডাক্তার জাফর আলম দিপু ও পনেশ বড়ুয়ার ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে ইনজেকশন প্রয়োগ, স্যালাইন পুশ, ক্ষতস্থানে ড্রেসিং, সেলাই এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ রোহিঙ্গা বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, চিকিৎসা শিক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বৈধতা এ প্রতিষ্ঠান কোথা থেকে পেয়েছে? স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, বিএমডিসি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থার অনুমোদন আছে কি? যদি না থাকে, তাহলে কোন ক্ষমতাবলে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে?
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আইডি কার্ড ও সনদপত্র বিতরণের মাধ্যমে এক ধরনের “ভুয়া চিকিৎসক তৈরির কারখানা” গড়ে তোলা হচ্ছে। আজ যারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, কাল তারা যদি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা শুরু করে, তার দায়ভার কে নেবে?
আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, বিষয়টি কি প্রশাসনের অজানা, নাকি কোনো অদৃশ্য কারণে সবাই নীরব?
চিকিৎসা কোনো পরীক্ষামূলক বিষয় নয়। একজন অদক্ষ ব্যক্তির হাতে ইনজেকশন বা চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলে দেওয়া মানে সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া। অনুমোদনহীন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো যদি অবাধে চিকিৎসা শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য তা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে, অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, অনুমোদন, প্রশিক্ষণের ধরন, সনদপত্রের গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিচালকদের পরিচয় ও কার্যক্রম তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
জনস্বার্থে এই প্রশ্নের উত্তর এখন জরুরি:
কুতুপালংয়ে চিকিৎসা প্রশিক্ষণের নামে আসলে কী চলছে?
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
উখিয়ায় মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ডে ক্যাম্প ও দীক্ষা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
উখিয়া বহুমুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন নির্দেশনা, সময়মতো গেট বন্ধ ও শৃঙ্খলায় কঠোরতা
গয়ালমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটিতে দাতা সদস্য নিয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ