Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

রামুতে সংবাদ সংগ্রহকালে হামলা: ডাকাত মালেকের বিরুদ্ধে মামলা, আহত ৪ সাংবাদিক।

আলোকিত রিপোর্ট:

কক্সবাজারের রামুতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন চার সংবাদকর্মী। এ ঘটনায় স্থানীয় দুইজনও আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামু উপজেলার কাউয়াখোপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নাপিতার ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ রামু প্রতিনিধি মো. সাইদুজ্জামান সাঈদ, দৈনিক কক্সবাজার বার্তা ও প্যানোয়া নিউজ রামু প্রতিনিধি উচ্ছ্বাস বড়ুয়া, সিসিএন নিউজ রামু প্রতিনিধি মো. কাসেম এবং কোহেলিয়া টিভি রামু প্রতিনিধি সিরাজুল মোস্তফা আবির।

আহত সাংবাদিকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে কাউয়াখোপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবেশ বিধ্বংসীভাবে ফসলি জমির টপসয়েল ও পাহাড়ের মাটি স্কেভেটর দিয়ে কেটে ডাম্পারযোগে পাচার করা হচ্ছিল। এতে এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করেন। পরে অভিযুক্ত আব্দুল মালেক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাটি কাটছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে চার সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ও ছবি ধারণ করছিলেন।
এ সময় সেখানে থাকা শ্রমিকরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কথিত পাহাড়খেকো আব্দুল মালেক। সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ‘সব দুই টাকার সাংবাদিক’ বলে উসকানি দিলে শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করে এবং মারধর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

এ ঘটনায় আব্দুল মালেক ওরফে ‘ডাকাত মালেক’-কে ১ নম্বর আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪–৫ জনের বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালান, ডাকাতি, হত্যা, সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা, ইয়াবা পাচার এবং পাহাড় কাটাসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউয়াখোপের নাপিতার ঘোনা এলাকার চিহ্নিত বালুদস্যু ও পাহাড়খেকো সন্ত্রাসী আব্দুল মালেক ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রামু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সায়েদ জুয়েল বলেন, “যারা অবৈধভাবে মাটি কাটছে তারা দেশের ও জাতির শত্রু। সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির ইসলাম ভূইয়া বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি জেনেছি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বি চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি পুলিশ দেখছে। কোথাও অবৈধভাবে মাটি কাটা হলে তথ্য দিলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনকে প্রভাবিত করে দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির টপসয়েল ও পাহাড় কেটে পাচার করছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি