নিজস্ব প্রতিবেদক | কক্সবাজার
কক্সবাজার শহরতলীর টেকপাড়ায় বাসায় ঢুকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় সানজিদা আক্তার রেশমি (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতার সহায়তায় তিন নারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টার দিকে টেকপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সানজিদাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রামে প্রেরণের প্রস্তুতিকালে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
নিহত সানজিদা আক্তার রেশমি সাতকানিয়ার বারদোনা এলাকার বাসিন্দা এবং ইমন কন্ট্রাক্টরের সাবেক স্ত্রী বলে জানা গেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে টেকপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রেশমি এলাকার একটি মুদির দোকান থেকে নিয়মিত কেনাকাটা করতেন। সেই সূত্রে দোকান মালিক পেশকারপাড়া এলাকার শফিউল আলম সওদাগরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শফিউল আলমের স্ত্রী ইয়াসমিনসহ তিন নারী মঙ্গলবার রাতে রেশমির বাসায় যান। সেখানে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় রেশমি ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় রেশমিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান এবং ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, একটি ভিডিও ফুটেজকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ইয়াসমিন ঘটনাস্থলেই ছুরিকাঘাতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।
স্থানীয় সমাজকর্মী রিয়াদ জানান, চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের আটক করেন। নিহত নারী স্থানীয় না হওয়ায় তার নিকটাত্মীয় কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাই এলাকাবাসীই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে সাব্বির গণমাধ্যমকে জানায়, ঘটনার সময় শফিউল আলম সওদাগর ও অপরিচিত আরেক ব্যক্তি আগে থেকেই তাদের বাসায় অবস্থান করছিলেন। পরে ইয়াসমিনসহ তিন নারী সেখানে এসে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তার মাকে ছুরিকাঘাত করেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তিন নারীকে আটক করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ: ৬ জন আটক
ভালুকিয়াপালং কমিউনিটি ক্লিনিকে আবারও চুরি, জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা
সরকারি ছুটির দিনে উখিয়া থানা ডিসপেনসারিতে দুঃসাহসিক চুরি, সোলার সিস্টেমের ৬ ব্যাটারি উধাও