Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

কাউন্সিলর একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ৪৬ বছর বয়সী একরামুল হক। ওই সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং ইয়াবার গডফাদার হিসেবে দাবি করা হয়েছিল।
তবে একরামুলের পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার ভাই এহসানুল হক বাহাদুরের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি একরামুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তার নিহত হওয়ার খবর আসে।
একরামুল নিহত হওয়ার সময়কার একটি অডিও প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অডিওতে গুলির শব্দসহ বিভিন্ন কথোপকথন শোনা যাওয়ার দাবি ওঠে। এরপর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ আরও জোরালো হয়।
এ ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারিক তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।
একরামুল হককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং কক্সবাজারে র‌্যাব-৭-এর সাবেক অধিনায়ক মিফতা উদ্দিন আহমেদের নামও ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবার শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এখন তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ এবং ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে রয়েছে একরামুলের পরিবারসহ স্থানীয়রা।

দৈনিক আলোকিত উখিয়া