আলোকিত ডেস্ক রিপোর্ট:
ইতিকাফ হলো রমজানের শেষ ১০ দিন (২০ রমজান সূর্যাস্তের আগে থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত) দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি করা। এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ আলাল কিফায়া; অর্থাৎ, কোনো মহল্লা থেকে অন্তত একজন ব্যক্তি ইতিকাফ করলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ঘটেছে ময়মনসিংহে খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদে। এই মসজিদে একসঙ্গে ৮৫০ জন মুসলল্লি ইতিকাফে বসছেন।
এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যার পর খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদের খতিব মুফতী মাহবুবুল্লাহ কাসেমী কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এই প্রতিষ্ঠান। ২০১২ সালে কুতুবে আলম শাইখুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)’র খলিফা শায়খ আব্দুল মুমিন (রহ.)’র মাধ্যমে এই খানকা প্রতিষ্ঠা হয়।
প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও রমজানকে কেন্দ্র করে এখানে ব্যাপক আমলের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘রমজানের প্রায় ১০ দিন আগে থেকে ৪০ দিনের চিল্লার আমল শুরু হয়। ২০২৬ সালে রমজানের ১০ দিন আগে প্রায় ১২৫ জন মুসল্লি ইতিকাফে বসেন। পরে পহেলা রমজান থেকে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৫ জনে।
রমজানের শেষ দশকে এই সংখ্যা ৮৫০ জনের বেশি মুসুল্লি।’
এই প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, সৈয়দপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, সিলেট, সুনামগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে এসে ইতিকাফে অংশ নিচ্ছেন। তাদের আমল ও ইবাদতে পুরো খানকা এলাকা এখন আধ্যাত্মিক পরিবেশে মুখরিত। খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া শুধু আধ্যাত্মিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়; দেশ-বিদেশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও পরিচালনা করে থাকে। ফিলিস্তিনে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য ইফতার ও খাদ্য বিতরণ, ভারতে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানদের আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছে।
এছাড়া দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালে সিলেটের বন্যায় প্রায় ২৬ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ করেছে। ২০২৪ সালে নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লার বন্যায় ৬৬ লাখ টাকার বেশি ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
খানকার তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ২০০ বেশি নও-মুসলিম দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি ৫৫ জনের বেশি এতিম ও অসহায় শিশুর চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা হয়। এছাড়া ২০০ বেশি অসহায় শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদের খতিব মুফতী মাহবুবুল্লাহ কাসেমী বলেন, ‘ইতিকাফে বসা মুসুল্লিদের খানকা ও এলাবাসির সহায়তায় খাবার নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়। এছাড়া এখানে মানুষের নৈতিক উন্নয়ন, উন্নত চরিত্র গঠন এবং সর্বোপরি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে।’
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
উখিয়ায় মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ডে ক্যাম্প ও দীক্ষা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
উখিয়ায় সারের দামে নৈরাজ্যের অভিযোগ
সকালে বেরিয়েছিল রুটিরুজির খোঁজে, ফিরে এসে পেল মা ও তিন বোনের নিথর দেহ