একদিনেই পৃথিবীর সব আপনজন হারিয়ে একা হয়ে গেল সিফাত
আলোকিত ডেস্কঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে অসহায় নাম এখন সিফাত হোসেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ সকালে যেমন প্রতিদিনের মতো ঘর থেকে বের হয়েছিল, তেমনি ভেবেছিল সন্ধ্যায় ফিরে আবার মা ও বোনদের মুখ দেখবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ি ফিরে তাকে দেখতে হয়েছে জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য।
যে ঘরে ছিল মায়ের মমতা, বোনদের হাসি আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সেই ঘরেই পড়ে ছিল প্রিয়জনদের রক্তাক্ত নিথর দেহ।
স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুর বেগম এবং তাঁর তিন মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে এক যুবকের নাম সামনে এসেছে। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ওই যুবকও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
কিন্তু এই ঘটনার সবচেয়ে করুণ অধ্যায় লুকিয়ে আছে সিফাতের জীবনে।
সাত বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান তার বাবা কামাল হোসেন। তখন থেকেই বাবাহারা সিফাত মাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে ছিল। সংসারের হাল ধরতে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজও করত সে। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও কর্মস্থলে চলে যায়। আর সেই কারণেই হয়তো প্রাণে বেঁচে যায় পরিবারের একমাত্র ছেলেটি।
কিন্তু ভাগ্য যেন তাকে বাঁচিয়ে রেখে আরও বড় শাস্তি দিয়েছে।
কারণ ফিরে এসে সে জানতে পারে, তার মা আর নেই। নেই তার তিন বোনও। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথিবী থেকে মুছে গেছে তার পুরো পরিবার।
আজ সিফাতের জন্য আর কেউ অপেক্ষা করে থাকবে না। কর্মস্থল থেকে ফিরলে কেউ জিজ্ঞেস করবে না, “খেয়েছো বাবা?” ঈদের সকালে নতুন কাপড় দেখানোর জন্য কোনো বোন থাকবে না। অসুস্থ হলে মাথায় হাত রাখার মতো মাও থাকবে না।
একদিনেই এতিম নয়, পুরো পৃথিবীতেই একা হয়ে গেছে সে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের চারজন সদস্যের প্রাণ কেড়ে নেয়নি, ধ্বংস করে দিয়েছে একজন তরুণের সমস্ত স্বপ্ন, সমস্ত আশ্রয় এবং বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় কারণগুলো।
আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ সিফাতের জন্য সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন। কিন্তু সহানুভূতির চেয়েও বড় প্রয়োজন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
কারণ হারিয়ে যাওয়া মা-বোনেরা আর কখনও ফিরে আসবেন না। কিন্তু বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে অন্তত সিফাতের বুকফাটা আর্তনাদের সামনে সমাজ কিছুটা হলেও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
আল্লাহ শাহিনুর বেগম ও তাঁর তিন কন্যাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং একা হয়ে যাওয়া সিফাতকে এই অসহনীয় শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন।প্রতিবেদন: মোঃ মিজান উর রশীদ মিজান
সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত উখিয়া।

আরো পড়ুন
উখিয়ায় মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ডে ক্যাম্প ও দীক্ষা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
উখিয়ায় সারের দামে নৈরাজ্যের অভিযোগ
উখিয়ায় Rab-এর অভিযানে ড্রামে লুকানো ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, নারী গ্রেফতার