Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

ইয়াবা মামলায় প্রকৃত গডফাদার অধরা, বাড়ছে নিরীহ মানুষ হয়রানির অভিযোগ

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে আবুল ফয়েজকে ঘিরে ইয়াবা বাণিজ্য ও অপহরণ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের উত্তাপের মধ্যেই এবার পবিত্র কোরআন শরীফ মাথায় নিয়ে নিজের নির্দোষিতার শপথ করেছেন ফয়েজ। ঘটনাটি এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।”

নিজস্ব প্রতি‌নি‌ধি‌ঃ

উখিয়া-টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করছে, মামলা হচ্ছে, গ্রেপ্তারও হচ্ছে। কিন্তু জনমনে একটি প্রশ্ন দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে, এসব ইয়াবার প্রকৃত মালিক কারা?
বাস্তবতা হচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মামলার আসামি হচ্ছেন বাহক, পরিবহনকারী কিংবা সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তি। অথচ যাদের নিয়ন্ত্রণে কোটি টাকার এই ভয়ংকর ব্যবসা, সেই মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে নেপথ্যে। বিশেষ করে “পরিত্যক্ত ইয়াবা” উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। কারণ অনেক সময় ঘটনাস্থলে কাউকে না পেলেও পরে মামলায় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ বাড়ছে। একাধিক ব্যক্তি ও পরিবারের দাবি, ব্যক্তিগত শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার কিংবা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে নিরীহ মানুষের নামও ইয়াবা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে সামাজিকভাবে নতুন সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত করছে, আবার অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি বাড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যদি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের বদলে অনুমাননির্ভর মামলা বাড়তে থাকে, তাহলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান যেমন জরুরি, তেমনি নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়াবা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সীমান্ত জনপদের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। তাই প্রয়োজন প্রকৃত গডফাদারদের শনাক্ত করা, আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং প্রতিটি মামলায় স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা। শুধুমাত্র বাহক বা সন্দেহভাজনদের ঘিরে অভিযান চালালে সাময়িক সাফল্য মিলতে পারে, কিন্তু মাদকের শিকড় নির্মূল হবে না।
উখিয়া-টেকনাফের মানুষ এখন একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, “আসল কারবারিরা কারা, আর তারা কেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে?”

আ‌লো‌কিত উ‌খিয়া