এক বছরে নাফ নদী ও সীমান্তে ১ কোটি ৭৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২৩৮

উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে মাদক পাচার প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে গত এক বছরে ১ কোটি ৭৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এক রাতেই উদ্ধার সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা

গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্ট ও উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযান চালায় বিজিবি। এসব অভিযানে মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বিজিবির হিসাবে, উদ্ধার করা এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

বিজিবি জানায়, রাত ৮টা ১০ মিনিটে হোয়াইক্যং চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ডাবল কেবিন পিকআপের পেছনের সিট কভারের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পিকআপচালক মো. সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে পিকআপ ও একটি মুঠোফোন।

অন্যদিকে, উখিয়ার পালংখালী সীমান্তবর্তী উলুবুনিয়া মাঝের কাঠি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে পোটলা হাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা তিনজনকে চ্যালেঞ্জ করলে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন উখিয়ার কাটাখাল এলাকার রাসেল (২৩) ও শাকিল (২২) এবং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকের বাসিন্দা খাইরুল আমিন (২৪)।

উদ্ধার বাড়ছে, পাচার বন্ধ হচ্ছে কি?

নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার এবং শত শত ব্যক্তিকে আটকের তথ্য মাদকবিরোধী অভিযানের ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। তবে একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের পথ, পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক এবং দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, এক বছরে ১ কোটি ৭৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ও ২৩৮ জনকে আটক করার পরও সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের চেষ্টা কেন অব্যাহত রয়েছে? এসব চালানের নেপথ্যে থাকা মূল হোতা, অর্থের জোগানদাতা ও দেশীয় সরবরাহকারীদের কতটা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে?

উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানগুলোর উৎস, গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পাচারচক্রের আর্থিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা গেলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হতে পারে। শুধু চালান জব্দ ও বাহক আটকের পাশাপাশি পাচারের মূল নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।