চট্টগ্রাম থেকে লুট হওয়া সাড়ে ৭ টন চিনি মিলল ছাত্রদল নেতার বন্ধ দোকানে

চকরিয়ায় ১৫০ বস্তা উদ্ধার, এ পর্যন্ত উদ্ধার ২৮৪ বস্তা, বাকি ১৬ বস্তার সন্ধানে অভিযান

ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক আলোকিত উখিয়া

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে লুট হওয়া ৩০০ বস্তা চিনির মধ্যে আরও ১৫০ বস্তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের নোনাছড়ি এলাকায় হারবাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেলের একটি বন্ধ টেইলার্সের দোকান থেকে এসব চিনি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা চিনির ওজন সাড়ে ৭ টন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে কাভার্ডভ্যান থেকে খোয়া যাওয়া ৩০০ বস্তা চিনির মধ্যে ২৮৪ বস্তা উদ্ধার হয়েছে। বাকি ১৬ বস্তা চিনির সন্ধানে অভিযান চলছে।

যেভাবে উদ্ধার হলো চিনি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ৩০০ বস্তা চিনি নিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান গায়েব হয়ে যায়। পরে চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কে কর্ণফুলী উপজেলা ভবনের সামনে চিনিবিহীন কাভার্ডভ্যানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ঘটনার তদন্তে নেমে পটিয়া থানা-পুলিশ জানতে পারে, লুণ্ঠিত চিনির একটি অংশ কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের আজিজনগর এলাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর বান্দরবানের আজিজনগর বাজারের ‘রাজিব স্টোর’-এর মালিক রাহাত উদ্দিন জুয়েলের গোডাউন থেকে ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়। পরে চকরিয়ার নোনাছড়িতে তার ভাই রাসেলের বন্ধ টেইলার্সের দোকান থেকে আরও ১৫০ বস্তা চিনি উদ্ধার করে পুলিশ।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুয়েল ও রাসেল দুই ভাই। রাসেল হারবাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। লুণ্ঠিত চিনি কেনাবেচার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হারবাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল আহমদ জানান, উদ্ধার অভিযানের খবর পেয়ে জুয়েল ও রাসেল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে চলে গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

চিনির মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে পটিয়া থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এতে কাভার্ডভ্যানের চালক মো. আলমগীর ও মুদি দোকানি রাহাত উদ্দিন জুয়েলকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, চালক আলমগীর অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের চিনি আত্মসাৎ করেছেন।

পটিয়া থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, চালক আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রাসেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে

৩০০ বস্তা চিনি নিয়ে কাভার্ডভ্যান গায়েব হওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে ২৮৪ বস্তা উদ্ধার হয়েছে। তবে বাকি ১৬ বস্তা চিনি কোথায়, কারা এই চিনি পরিবহন ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত এবং পুরো ঘটনার পেছনে আরও কেউ রয়েছেন কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।

পুলিশের তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে, এটি চালকের একক আত্মসাতের ঘটনা, নাকি এর সঙ্গে আরও একটি চক্র জড়িত। আপাতত বাকি চিনি উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই তদন্তকারীদের সামনে প্রধান কাজ।

দৈনিক আলোকিত উখিয়া | ডেস্ক রিপোর্ট