নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়ায় “Cox’s Bazar Medical Training Center” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে “DMS (Diploma in Medical & Surgery)” কোর্স চালুর বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞাপনে মেডিকেল প্রশিক্ষণ, ইনজেকশন প্রদান, সেলাইন পুশ, সেলাই-ড্রেসিং, রক্ত পরীক্ষা, এমনকি সার্জারির মৌলিক ধারণা শেখানোর দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি ছাড়া পল্লী চিকিৎসক তৈরির নামে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন কম্পিউটার কোর্স পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে।
বিজ্ঞাপনে “ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল অ্যান্ড সার্জারি (DMS)” কোর্সের কথা উল্লেখ করা হলেও, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) বা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই কোর্স সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা আদৌ কোনো বৈধ সনদ বা পেশাগত স্বীকৃতি পাবেন কি না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসা শিক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অনুমোদনহীন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। কয়েক মাস বা এক বছরের প্রশিক্ষণ নিয়ে কেউ যদি নিজেকে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি ভুল চিকিৎসারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, কথিত এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাফর আলম ডিপু ও পনেশ বড়ুয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, অনুমোদন এবং পরিচালন কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


প্রশ্ন এখন একটাই: সরকারি অনুমোদন ছাড়া যদি মেডিকেল প্রশিক্ষণের নামে ব্যবসা চলে, তাহলে ভবিষ্যতে এর দায় কে নেবে? প্রশাসন কি নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে, নাকি দ্রুত তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করবে?
প্রতিবেদন: মোঃ মিজান উর রশীদ মিজান
সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
উখিয়ায় ভিজিএফের ৩৫ বস্তা চাল জব্দ: গরিবের হক লুটের অভিযোগে তোলপাড়
উত্তর হাজীরপাড়ায় ৩০ লাখ টাকার কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে গেছে
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবী মহিলা ওয়ার্ডে ‘পুরুষ থাকে না’, ছবি বলছে ভিন্ন কথা!