ডিজিটাল আলোকিত ডেস্ক রিপোর্টঃ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালীতে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটকে কেন্দ্র করে ২১ জন গ্রাহকের জমা রাখা ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এজেন্ট মালিক ও ক্যাশিয়ারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উখিয়া থানা পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়া এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন (৬৮) এবং ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলামকে আদালতে পাঠায়।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে পালংখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার ফয়সাল আরিফ উখিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলায় এজেন্ট মালিক, ক্যাশিয়ার, ম্যানেজার, অংশীদারসহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ সাল থেকে পরিচালিত ওই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে স্থানীয় গ্রাহকেরা সরল বিশ্বাসে হিসাব খুলে নিয়মিত টাকা জমা রাখতেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। পরে হিসাব ও জমার রসিদ যাচাই করে গ্রাহকেরা তাদের জমাকৃত অর্থের সঙ্গে ব্যাংকের হিসাবে বড় ধরনের গরমিল দেখতে পান।
মামলার বাদীর দাবি, তার নিজের হিসাবে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জমা ছিল। এছাড়া আরও ২০ জন গ্রাহকের বিভিন্ন অঙ্কের অর্থসহ মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, হিসাবের বই, জমার রসিদ ও সংশ্লিষ্ট নথিতে জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের জমাকৃত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই আউটলেটের আরও অনেক গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার সকালে গ্রাহকেরা তাদের টাকা ফেরত চাইতে আউটলেটে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাকিম উদ্দিন ও তাহসিন ইসলামকে হেফাজতে নেয়। এ সময় অন্য কয়েকজন অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, মামলার এজাহারে নাম থাকা ম্যানেজার হাবিব উল্লাহ ফরহাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি তদন্তাধীন মামলা। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে।
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক আলোকিত উখিয়া
আরো পড়ুন
ইনানীতে পাঁচতলা ভবনে উচ্ছেদ অভিযান, মাঠে কউক ও উখিয়া প্রশাসন
উখিয়ায় অধিকাংশ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্স নেই? অভিযান হবে কবে!.
এলপিজি সংকটে দিশেহারা ভোক্তা, ১,৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,৬০০ টাকায়