এলপিজি সংকটে দিশেহারা ভোক্তা, ১,৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,৬০০ টাকায়

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৭৬৩ টাকা বেশি আদায়ের অভিযোগ, তদারকি জোরদারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক আলোকিত উখিয়া

দেশজুড়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

বিইআরসি নির্ধারিত অক্টোবর মাসের মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অথচ অভিযোগ অনুযায়ী, বাজারে একই সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ৬৬৩ থেকে ৭৬৩ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্নার জ্বালানি কিনতে গিয়ে বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলপিজির আমদানি ও সরবরাহে ঘাটতি বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। সেপ্টেম্বরে এলপিজি আমদানি আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় সিলিন্ডারের সংকট দেখা দেয় এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ সামনে আসে।

তবে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের পক্ষ থেকে দেশে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করার তথ্যও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি এবং ভোক্তাদের বাজারে সিলিন্ডার না পাওয়া কিংবা অতিরিক্ত দামে কেনার অভিজ্ঞতার মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে।

এলপিজি এখন দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবারের রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি। বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও গ্যাস সংযোগবিহীন এলাকায় সিলিন্ডারনির্ভর পরিবারের জন্য এটি অপরিহার্য। সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংসারের ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক পরিবার। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলোও বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপে পড়ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দামেও।

এদিকে উখিয়া ও টেকনাফসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির প্রকৃত সরবরাহ পরিস্থিতি, খুচরা বিক্রয়মূল্য এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ সরেজমিনে যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবহন ব্যয়ের অজুহাতে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বাজার তদারকি জোরদার করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডারের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রির হিসাব যাচাই করে কৃত্রিম সংকট কিংবা অবৈধ মজুতের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে সংকটাপন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, নির্ধারিত মূল্য থাকা সত্ত্বেও বাজারে কেন অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার? সরবরাহে ঘাটতি থাকলে তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়? জনস্বার্থে এসব প্রশ্নের জবাব নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রান্নার মতো মৌলিক প্রয়োজনের জ্বালানি নিয়ে এমন সংকট ও মূল্যবৈষম্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। তাই এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক করা, নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।