আলোকিত ডিজিটাল ডেক্সঃ
মিয়ানমার দাবি করেছে, বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত তিনটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় তারা তিন দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগের পরও কোনো বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি মিয়ানমারে ফেরেননি।
শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ যে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির তালিকা দিয়েছে, তার মধ্যে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করেছে মিয়ানমার। যাচাই শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মিয়ানমারের দাবি, এসব পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে অবস্থানরত সবাই মিয়ানমার থেকে আসেননি। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে যে, অন্য দেশ থেকে আসা ‘নৌকার মানুষ’ বা অন্যান্য ব্যক্তি এমন একটি জাতিগত পরিচয় দাবি করছেন, যা মিয়ানমারে কখনও স্বীকৃত ছিল না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৮ এবং ১৯৯১-৯২ সালের সামরিক অভিযানের সময় রাখাইন রাজ্য থেকে কিছু বাঙালি বাংলাদেশে চলে আসে। তবে দুই দেশের মধ্যে হওয়া দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ১৯৭৮-৭৯ সালে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৮ জন এবং ১৯৯২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৫ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিকে গ্রহণ করেছে মিয়ানমার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুতদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি হিসেবে রাখাইনে ‘কাম অ্যান্ড সি’ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে।
মিয়ানমার বলেছে, যাচাইকৃত বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে তারা মনে করে, এ সমস্যা দুই দেশের মধ্যে সমাধানযোগ্য একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়। একে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করায় দেশটি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রেখে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে সেখানে বসবাসকারী সাবেক বাসিন্দাদের পর্যায়ক্রমে গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন
কক্সবাজারে RAISE প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩ জন প্রবাসী ফেরত সেবাগ্রহীতার নতুন কর্মসংস্থান
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, ২৪ জনই সিলেটের
সৌদির আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া