নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও বর্তমানে মাদক কারবারিরা তাদের কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা এখন আর কেবল অন্ধকার জগতের বাসিন্দা নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন বৈধ ও সেবামূলক ব্যবসার আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখছে।
ব্যবসায়িক ছদ্মবেশে মাদকের নেটওয়ার্ক: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাদক কারবারিরা তাদের অবৈধ আয়ের উৎস গোপন করতে এবং নির্বিঘ্নে মাদক সরবরাহের জন্য বিভিন্ন পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- ওষুধের ফার্মেসি ও বিকাশ এজেন্ট: জরুরি সেবার সুযোগ নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা এবং আর্থিক লেনদেনের আড়ালে মাদকের টাকা আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
- রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঠিকাদারি: এনজিও বা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ঠিকাদার সেজে মাদক কারবারিরা ক্যাম্পে অবাধে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা মাদকের চালান ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে সরবরাহ করা তাদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠেছে।
- মুদি, গার্মেন্টস ও ডিলারশিপ: পণ্য পরিবহনের আড়ালে বড় বড় কার্টনে বা নামী-দামী কোম্পানির ডিলারশিপের পণ্যবাহী ট্রাকে করে মাদকের চালান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করা হচ্ছে।
- বাঁশ ব্যবসা: টেকনাফের পাহাড়ি এলাকা থেকে বাঁশ পরিবহনের সময় বাঁশের ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে রাখার কৌশল এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
কৌশল পরিবর্তনের নেপথ্যে: মাদক কারবারিরা মূলত তিনটি উদ্দেশ্যে এই কৌশল ব্যবহার করছে:
১. গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে বৈধ আয়ের উৎস দেখানো।
২. মাদকের উপার্জিত কালো টাকা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে সাদা করা বা মানি লন্ডারিং।
৩. ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাবশালী মহলের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে বিচার এড়ানো ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া।
অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: এই মাদক সিন্ডিকেটের প্রভাবে বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে এবং স্থানীয় যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এছাড়া মাদকের কালো টাকা মূল অর্থনীতিতে ঢুকে বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিকারের উপায়: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। বিশেষ করে যারা হঠাৎ বিত্তবান হয়েছে, তাদের আয়ের উৎস তদন্ত করা এবং ফার্মেসি বা বিকাশ এজেন্টের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর ‘ব্যাকগ্রাউন্ড চেক’ করা জরুরি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত শ্রমিক ও ঠিকাদারদের ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা এবং স্থানীয় মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমেই এই চক্রের মূলে আঘাত করা সম্ভব।
কেবল তল্লাশি চালিয়ে এই রমরমা মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব নয়; বরং তাদের আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং ছদ্মবেশী ব্যবসার উৎসগুলো দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
রিফাত আসমা বদলি, ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন
কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ, বিএনপি নেতা লিয়াকতসহ কয়েকজন আহত
জাল সনদের অভিযোগ বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক: উখিয়ার শিক্ষক মোস্তফা কামালের দাবি