Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

উখিয়ায় ভিজিএফের ৩৫ বস্তা চাল জব্দ: গরিবের হক লুটের অভিযোগে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্র, অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের ৩৫ বস্তা চাল গোপনে মজুদ রাখার অভিযোগে জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অভিযান চালান উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সুলতানা। অভিযানে পরিষদের একটি কক্ষ থেকে ৩৫ বস্তা সরকারি ভিজিএফের চাল উদ্ধার করা হয়। পরে কক্ষটি সিলগালা করে দেয় প্রশাসন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ না করে তা গোপনে মজুদ রাখা হয়েছিল। তাদের দাবি, রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা ও সচিব (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) মৃনাল বড়ুয়ার যোগসাজশে এসব চাল আত্মসাৎ কিংবা কালোবাজারিতে বিক্রির অপচেষ্টা চলছিল।
প্রশ্ন উঠেছে, যদি চালগুলো প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে বিতরণ না করে গোপনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কেন? কার নির্দেশে এবং কোন উদ্দেশ্যে চালগুলো আটকে রাখা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর এখনও মেলেনি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি খাদ্যশস্য অবৈধভাবে মজুদ ও আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দকৃত চালের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জব্দকৃত চাল প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে দ্রুত বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, “গরিবের হক নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের শুধু প্রশাসনিক নয়, ফৌজদারি আইনের আওতায়ও জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না।”
উল্লেখ্য, এই অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান নুরুল হুদা ও সচিব মৃনাল বড়ুয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আলো‌কিত উখিয়া