Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

সরকারি শর্ত লঙ্ঘন করে উখিয়া টিভি টাওয়ার সংলগ্ন সড়কেই বসছে পশুর হাট

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্রে স্পষ্ট শর্ত থাকলেও তা উপেক্ষা করে উখিয়া টিভি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় সরাসরি মহাসড়কের উপরেই বসানো হচ্ছে অস্থায়ী পশুর হাট। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্রেতাদের লক্ষ্য করে গড়ে ওঠা এই হাট এখন স্থানীয় জনসাধারণের জন্য মারাত্মক দুর্ভোগ ও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করেছে।
প্রশাসনের অনুমতিপত্রেই শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে (স্মারক নং- ০৫.২০.২২৯৪.০০০.০০১.০১৮.২৬-৪৬৪) বালুখালী পশ্চিম পাড়ার আনোয়ারুল ইসলামের অনুকূলে ওই স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতিপত্রে ১২টি সুস্পষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর প্রায় কোনোটিই মানা হচ্ছে না।
অনুমতিপত্রের ১২ নম্বর শর্তে স্পষ্ট বলা আছে — “রাস্তা সংলগ্ন হাটে আগত পশুবাহী গাড়ি রাস্তার উপর না দাঁড়িয়ে হাটের নির্দিষ্ট স্থানে থামিয়ে পশু আনলোড করতে হবে। মহাসড়ক হতে পশু হাটের দূরত্ব যথেষ্ট হতে হবে।” অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পশুবাহী যানবাহন সরাসরি মহাসড়কের উপরেই থামছে এবং পশু আনলোড করা হচ্ছে।
এছাড়া ৩ নম্বর শর্তে পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় হাট বসানোর নির্দেশ থাকলেও এবং ১ নম্বর শর্তে নির্ধারিত সীমার বাইরে হাটের পরিসীমা বৃদ্ধি না করার কথা থাকলেও হাট ছড়িয়ে পড়েছে সরাসরি সড়কের উপর।
তীব্র যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাট চলাকালীন উখিয়া-টেকনাফ মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। গরু-ছাগলসহ ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। উল্লেখ্য, টিভি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকাটি আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এখানে পশুর হাট বসায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসন শর্ত দিয়ে অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু সেই শর্ত মানা হচ্ছে কি না তা দেখার যেন কেউ নেই। ইজারাদার নিজের সুবিধামতো হাট চালাচ্ছেন।”
অনুমতিপত্রেই বাতিলের ক্ষমতা সংরক্ষিত
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অনুমতিপত্রের ৯ নম্বর শর্তে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনো সময় এই অনুমতি বাতিল করতে পারবে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, শর্ত লঙ্ঘন এত স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন কেন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না।
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও হাটের অনুমতিপ্রাপ্ত ইজারাদার আনোয়ারুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সড়ক থেকে হাট সরিয়ে নেওয়া, শর্ত লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

আ‌লো‌কিত উ‌খিয়া