Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

নারায়ণগঞ্জে নয়ন হত্যা: ৪ বছর পর মূল আসামি গ্রেফতার

আলোকিত ডেস্ক রিপোর্ট:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বহুল আলোচিত নয়ন হত্যা মামলার প্রায় চার বছর পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামি মো. কামাল হোসেন (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই জানায়, তাদের প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোহাম্মদ কামাল হোসেন (বিপিএম)-এর সার্বিক নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে ফতুল্লার ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ (ডিএন) রোড এলাকা থেকে কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, নিহত নয়ন মিয়া (৩০) ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে সোনারগাঁওয়ের মারুদী এলাকার বাড়ি থেকে বন্দর থানার কেওঢালা এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। পরদিন ১ জানুয়ারি সকালে তার মরদেহ সোনারগাঁওয়ের সাজালের কান্দি এলাকায় সোবহানের জমির উত্তর পাশের রাস্তার ঢালে পাওয়া যায়। পরে তার বাবা মোঃ আলম বেপারী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–০৪, তারিখ: ০২/০১/২০২২, ধারা: ৩০২/৩৪)।

তদন্তে উঠে আসে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত নয়ন তার চাচা ফিরোজ মিয়ার পক্ষে অবস্থান নেন, যিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। নির্বাচনে দেলোয়ার হোসেন বিজয়ী হওয়ার পর নয়নের ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় প্রতিপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে।

পিবিআই–এর তদন্ত অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে নয়নকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে ১৪–১৫ জনের একটি দল। পরে তাকে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং একপর্যায়ে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলের পাশের ডোবায় ফেলে রাখা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি কামাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে প্রেরিত এক প্রেস রিলিজে জানানো হয়, দীর্ঘদিন তদন্তের পর তথ্য–প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্য পিবিআই নারায়ণগঞ্জের ধারাবাহিক তদন্ত কার্যক্রমের অংশ বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) এবং পুলিশ সুপার মোঃ মোহাম্মদ কামাল হোসেন (বিপিএম)। তারা জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।

বাংলা ভিশন