বাহক ধরা পড়ছে, অধরা কি মূল হোতারা?
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক আলোকিত উখিয়া
কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও সেনাবাহিনীর যৌথ চেকপোস্টে পৃথক দুটি যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা প্রধান সড়কে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে শফিউল্লাহকাটা পুলিশ ক্যাম্প ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথমে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে মো. ইসমাইলের কাছ থেকে ৮৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তিনি বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে একটি সন্দেহজনক মিশুক অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে চালক নুরুল হাসানের কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তিনি পালংখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
উদ্ধার করা ইয়াবাসহ দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য উখিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই চালানগুলো কোথা থেকে আসছে, কোথায় যাচ্ছিল এবং এর পেছনে কারা রয়েছে?
উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাদক উদ্ধার এবং আটকের খবর পাওয়া যায়। কিন্তু একটি চালান জব্দের পর তদন্ত কতটা এগোয়, সরবরাহকারী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করা যায় কি না, তা-ও জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।
একজন বাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাদক পাচারের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা না গেলে একই পথে নতুন চালান আসার ঝুঁকি থেকেই যায়।
তাই তদন্তকারী সংস্থার কাছে প্রশ্ন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে কী তথ্য পাওয়া গেছে? এই চালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি? মাদক ব্যবসার অর্থের উৎস ও লেনদেন অনুসন্ধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য শুধু কত পিস ইয়াবা উদ্ধার হলো, তা দিয়ে বিচার করা যায় না। বিচার করতে হবে, মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভাঙতে কতটা অগ্রগতি হলো, তার ভিত্তিতেও।
দৈনিক আলোকিত উখিয়া মনে করে, উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি, মামলার পরিণতি এবং মূল চক্র শনাক্তের তথ্যও নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন। সীমান্তের নিরাপত্তা ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় এ জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদন: দৈনিক আলোকিত উখিয়া।
আরো পড়ুন
উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন, সভাপতি রিদুয়ানুর রহমান, সম্পাদক জিয়াউল করিম রিয়াদ
উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ খননকালে গ্যাসের উদগীরণ, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস
ইনানীতে পাঁচতলা ভবনে উচ্ছেদ অভিযান, মাঠে কউক ও উখিয়া প্রশাসন