আলোকিত রিপোর্ট:
কক্সবাজারের উখিয়ায় ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও উদ্বেগ। মাত্র ৬ বছর বয়সী শিশু কন্যা মাইরা এখন কারাগারের বাসিন্দা। তবে বাস্তবতা হলো—সে কোনো মামলার আসামি নয়, এমনকি কোনো অভিযোগও নেই তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাইরার মা ফারজানা, চাচি রুজিনা এবং দাদা জাফর ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করে উখিয়া থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মায়ের হাত ধরে সেই পথেই কারাগারে যেতে হয় ছোট্ট মাইরাকেও।
উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, পলাতক আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয় পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় মামলায় তাদের আসামি করা হয়। শনিবার রাতে অভিযানে গেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে পুরো ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে একটিই—একটি নিরীহ শিশুর অবস্থান কোথায়? আইন অনুযায়ী, মাইরা কোনোভাবেই অভিযুক্ত নয়। তবুও তাকে কারাগারে যেতে হলো শুধুমাত্র মায়ের সঙ্গে থাকার কারণে।
পুলিশ বলছে, শিশুটি মাকে ছেড়ে থাকতে রাজি হয়নি। তাই বিকল্প কোনো উপায় না দেখে তাকে মায়ের সঙ্গেই পাঠানো হয়েছে। ওসি দাবি করেন, কারাগারে শিশুদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাও রয়েছে।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মাইরার ছবি ভিন্ন এক বাস্তবতা সামনে আনছে। প্রশ্ন উঠছে—একটি শিশুর জন্য কি কারাগার কখনোই উপযুক্ত পরিবেশ হতে পারে? আত্মীয়স্বজন বা সমাজসেবা বিভাগের মাধ্যমে কি কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেত না?
আইন তার নিজস্ব পথে চলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই পথ যেন মানবিকতা ও শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে উপেক্ষা না করে, সেটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

আরো পড়ুন
উখিয়ায় মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ডে ক্যাম্প ও দীক্ষা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
উখিয়া বহুমুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন নির্দেশনা, সময়মতো গেট বন্ধ ও শৃঙ্খলায় কঠোরতা
গয়ালমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটিতে দাতা সদস্য নিয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ