Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

রয়টার্সের প্রতীকী ছবি

১৫ দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ

আলোকিত ডিজিটাল ডেস্ক 
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা শুরু করার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও ভারতসহ বিশ্বের ১৫টিরও বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। 
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানে এই সামরিক অভিযান শুরুর দাবি করার পর দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে।

জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা পাঁচ দফা পরমাণু সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে এই ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক জরুরি বিবৃতিতে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে পুরো ইসরায়েল জুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন।

উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফল নিয়ে তার চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দফা সংলাপে তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুত এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দেয় যে, কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর আগে জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বিপুল পরিমাণ যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল।

কূটনৈতিক সূত্র

গুলো জানিয়েছে যে, বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয়ে সমঝোতা হলেও মূল বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোতে ইরান কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় তারা এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জার্মানি, কানাডা, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ তাদের দূতাবাস কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বা বিকল্প উপায়ে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। আকাশসীমা ও স্থলপথে যাতায়াত যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং অনেক দেশ তাদের যাত্রীবাহী বিমানের রুট পরিবর্তন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই অভিযানে শরিক হতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থা উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, হামলা শুরু হয়ে যাওয়ায় এখন যুদ্ধের বিস্তার রোধ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: জিনহুয়া ইংলিশ

আলোকিত উখিয়া