সম্পাদকীয়
বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) কার্ড। মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এই কর্মসূচি চালু করেছে। দুর্যোগ, বন্যা, নদীভাঙন কিংবা মৌসুমি কর্মসংস্থানের সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
কাগজে-কলমে এটি একটি মানবিক কর্মসূচি। কিন্তু বাস্তবতায় প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে—কারা সত্যিকার অর্থে এই সহায়তা পাচ্ছেন?
ভিজিএফ কার্ড কী
ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) হলো সরকারের একটি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে নির্দিষ্ট সময় খাদ্যশস্য দেওয়া হয়। সাধারণত ঈদসহ বিশেষ সময়গুলোতে এই সহায়তা বিতরণ করা হয়।
সাধারণভাবে একজন সুবিধাভোগী পরিবারকে প্রায় ১০ কেজি চাল দেওয়া হয়, যা খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে দেয়।
কেন এই কর্মসূচি
বাংলাদেশে এখনও অনেক মানুষ আছেন যারা দুর্যোগ, বেকারত্ব বা দারিদ্র্যের কারণে খাদ্য সংকটে পড়েন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় এই সংকট আরও বেশি দেখা যায়।
এই বাস্তবতা থেকেই সরকার ভিজিএফ কর্মসূচি চালু করেছে, যাতে অন্তত সংকটকালে দরিদ্র মানুষের ঘরে খাবারের ব্যবস্থা থাকে।
কারা ভিজিএফ কার্ড পাওয়ার কথা
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণত নিচের শ্রেণির মানুষ ভিজিএফ কার্ড পাওয়ার যোগ্য:
-
ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবার
-
কর্মহীন বা আয়হীন পরিবারের প্রধান
-
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার
-
বিধবা, বয়স্ক বা অসহায় পরিবার
-
যারা অন্য কোনো সরকারি সহায়তা পান না
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড পর্যায়ে তালিকা তৈরি করে এসব সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়।
বাস্তবতায় যে প্রশ্নগুলো উঠছে
কাগজে-কলমে নিয়ম পরিষ্কার হলেও বাস্তবতায় অনেক জায়গায় অভিযোগ উঠে—
তালিকা তৈরির সময় প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী বা অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া কার্ড তৈরি করে চাল আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে।
এই ধরনের ঘটনা শুধু দুর্নীতির উদাহরণ নয়, বরং প্রকৃত দরিদ্র মানুষের অধিকারও কেড়ে নেয়।
উখিয়ায় বাস্তব চিত্র কী?
এখানেই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
উখিয়া উপজেলা একটি উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের সংখ্যা কম নয়। অনেক পরিবার দিনমজুরি বা অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভর করে।
তাই প্রশ্ন উঠছে—
উখিয়া উপজেলায় যেসব মানুষ প্রকৃতপক্ষে ভিজিএফ কার্ড পাওয়ার যোগ্য, তারা কি সত্যিই এই সুবিধা পেয়েছেন?
-
তালিকা তৈরির সময় কি প্রকৃত দরিদ্রদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
-
কোনো প্রভাবশালী মহল কি তালিকা নিয়ন্ত্রণ করেছে?
-
যাদের নামে কার্ড আছে, তারা কি চাল হাতে পেয়েছেন?
-
নাকি অনেক কার্ড কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা এখন সময়ের দাবি।
শেষ কথা
ভিজিএফ কার্ড কোনো দয়া নয়—এটি দরিদ্র মানুষের অধিকারভিত্তিক খাদ্য সহায়তা।
তাই এই কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারের উদ্দেশ্য যদি সত্যিই দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো হয়, তাহলে স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ প্রক্রিয়া হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।
অন্যথায় প্রশ্ন থেকেই যাবে—
ভিজিএফ কার্ড কি সত্যিই দরিদ্র মানুষের জন্য, নাকি কিছু মানুষের জন্য নতুন সুযোগের দরজা?
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
বালুর নামে লুট—রাষ্ট্রের কোষাগার কার জন্য?
মসজিদের পবিত্রতা বনাম উৎসবের পরিসর—সংযমই সমাধান
মডেল মসজিদে বৈশাখ উদযাপন: এম এ হালিম বোখারীর গভীর উদ্বেগ