Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

আলোকিত উখিয়া

সাংবাদিক ইকবাল ফারুক

জীবন-মৃত্যুর লড়াই আর আইনের নীরবতা

সম্পাদকীয় আলোকিত উখিয়া

উত্তর হারবাংয়ের ইছাছড়িতে সংঘটিত বর্বর হামলার দশ দিন পেরিয়ে গেছে। সেই হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিক ইকবাল ফারুক আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য। একদিকে একটি পরিবার অনিশ্চয়তার অন্ধকারে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করছে, অন্যদিকে সমাজ দেখছে—আইন কোথায়?

প্রশ্ন খুব স্পষ্ট।
যে হামলার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসা নথি—সবই আছে, সেই ঘটনায় অভিযুক্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে কেন? ক্ষমতার প্রভাববলয় কি এতটাই শক্তিশালী যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এগোতে পারছে না? নাকি আমরা সত্যিই এক অদৃশ্য লুকোচুরি খেলার দর্শক হয়ে গেছি?

গণমাধ্যমের ওপর হামলা কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়। এটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর আঘাত। আজ যদি একজন সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টার পরও অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হয়, কাল সেই বার্তা আরও ভয়ংকর হয়ে ফিরে আসবে—সত্য বললে শাস্তি হবে, কিন্তু হামলাকারীর কিছুই হবে না।

বাজারে নানা গুঞ্জন ভাসছে—প্রভাব, তদবির, উচ্চ আদালতে দ্রুত জামিনের চেষ্টা। এসব গুঞ্জন সত্য হোক বা না হোক, নীরবতা ও বিলম্ব সেই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে। আইন যদি দ্রুত, দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে মানুষের আস্থা ভেঙে পড়বে।

আজ একজন সাংবাদিক মৃত্যুশয্যায়।
রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন—এই ঘটনার দায় কে নেবে?
আইনের কাছে প্রশ্ন—বিচার কি বিলম্বিত হয়ে অকার্যকর হবে?
সমাজের কাছে প্রশ্ন—আমরা কি শুধু প্রার্থনা করেই থামবো?

এখন সময় স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার—
সন্ত্রাসীর কোনো প্রভাববলয় নেই।
আইনের কোনো ভয় নেই।
বিচারের কোনো বিলম্ব নেই।

ইকবাল ফারুকের সুস্থতা কামনা করছি। কিন্তু একই সঙ্গে বলছি—এই হামলার নেপথ্যসহ সম্পূর্ণ বিচার নিশ্চিত না হলে তা শুধু একটি ঘটনার বিচারহীনতা হবে না, তা হবে ভবিষ্যৎ হামলার নীরব অনুমোদন।

আলোকিত উখিয়া