বিশেষ প্রতিনিধি: উখিয়া
উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিতরণ করা ভিজিএফের ১০ কেজি চালের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক উপকারভোগী অভিযোগ করেছেন, তাদের দেয়া চাল খাওয়ার উপযোগী ছিল না। বাধ্য হয়ে অনেকে সেই চাল কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় অনেক উপকারভোগী প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, তাদের দেয়া চাল নষ্ট ও খাওয়ার অনুপযোগী। স্থানীয়দের দাবি, উখিয়ার ছয়তারা অটো রাইস মিল, কোটবাজার-ভালুকিয়া সড়কের ডায়মন্ড অটো রাইস মিল এবং হাফসা টেক্সটাইল নামের প্রতিষ্ঠান উখিয়া খাদ্য গুদামের অধীনে চাল সরবরাহ করে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ভালো মানের চাল বাইরে বিক্রি করে নিম্নমানের চাল ভিজিএফ কর্মসূচির জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রেশন বিতরণ ব্যবস্থাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এতে স্থানীয় ডিলার, মিল মালিক, কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জড়িত। এই অনিয়মে বড় ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধেও। নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসারদের সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে তদারকি করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতি দেখা যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মেহেদী হাসান দাবি করেছেন, চাল বিতরণের সময় তিনি সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকেন। অন্যদিকে, রাজাপালং ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ও পছন্দের লোকদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিম্নমানের চাল সরবরাহের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যেসব পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে এবং নিয়মিত খাদ্য সংকটে ভোগে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিজিএফ কার্ড দেয়ার কথা। এর মধ্যে রয়েছে- ভিটাবাড়ি ছাড়া জমি নেই এমন পরিবার, দিনমজুরের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবার, স্বামী পরিত্যক্তা বা তালাকপ্রাপ্ত অসচ্ছল নারী, প্রতিবন্ধী বা উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই এমন পরিবার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এসব নীতিমালা মানা হয়নি। চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ব্যক্তিগত পছন্দের লোক, কর্মীবাহিনী এমনকি কতিপয় সাংবাদিকও কার্ড পেয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে প্রকৃত হতদরিদ্র অনেক পরিবার তালিকার বাইরে থেকে গেছে। রাজাপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীপাড়া গ্রামের একাধিক নারী-পুরুষ অভিযোগ করে বলেন, তারা চাল বিতরণের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। কখন তালিকা করা হয়েছে, তাও তাদের জানানো হয়নি। ফলে গ্রামের অনেক হতদরিদ্র পরিবার ভিজিএফ কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রাজাপালং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান জানান, ইউনিয়নের ৭ হাজার ৭৫৪টি হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কার্ড বিতরণে কোথাও অনিয়ম হয়েছে কিনা- আমার জানা নেই। মেম্বারদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানার জন্য উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ফরিদুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা বলেন, ভিজিএফ চাল বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
উখিয়া দারোগা বাজারে ময়লার স্তুপ: ইজারাদারের দায়িত্বহীনতায় জনদুর্ভোগ চরমে
উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
৬ বছরের মাইরা এখন কারাগারের বাসিন্দা: কিন্তু কেন?