Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে রাজপথেই, হোয়াইট হাউসে নয়

আলোকিত ডেস্ক রিপোর্ট:

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সাম্প্রতিক বিমান হামলার ঘটনায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত আধুনিক ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা গভীর ভূগর্ভস্থ নিরাপদ আশ্রয়স্থলও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা যায়। একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরে এমন হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

পাকিস্তান-বাংলাদেশে প্রতিবাদ

ইরানে হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানে মার্কিনবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেট ঘিরে উত্তেজনা ছড়ালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ প্রেক্ষাপটে স্মরণ করা হচ্ছে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারির ঢাকার ঘটনাও, যখন ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদে মিছিলের সময় গুলিতে প্রাণহানি ঘটে। দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মনোভাবের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাই এসব প্রতিক্রিয়ায় প্রতিফলিত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের পতনের পর ইরানে নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও বিরোধী মত দমনের মাধ্যমে বিপ্লবের বহুমাত্রিক চরিত্র ক্ষুণ্ন হয়েছে। ২০০৯ সালের ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ এবং ২০১৮ সালের আন্দোলন দমন ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও গভীর করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কুস্তিগীর নাভিদ আফকারির ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

নিরাপত্তা বাহিনী ও দমন-পীড়নের অভিযোগ

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (Islamic Revolutionary Guard Corps)–এর বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক আন্দোলনে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।

সরকারবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন, বিশেষ করে People’s Mojahedin Organization of Iran (এমইকে), নিজেদের সক্রিয় উপস্থিতির জানান দিচ্ছে। প্রবাসভিত্তিক জোট National Council of Resistance of Iran ইতোমধ্যে মরিয়ম রাজভিকে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের প্রতীকী ঘোষণার মাধ্যমে একটি বিকল্প কাঠামোর ইঙ্গিত দিয়েছে। পাশাপাশি কুর্দি অঞ্চলভিত্তিক দল যেমন Kurdistan Democratic Party of Iran ও Komalaও সক্রিয় রয়েছে।

২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” স্লোগান কুর্দি আন্দোলনের শিকড় থেকে উঠে এসে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পরিস্থিতি কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়; এর প্রভাব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশল, আঞ্চলিক শক্তির অবস্থান এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে দেশটি এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

অনেকের মতে, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে তেহরানের রাজপথে—জনগণের শক্তি, রাজনৈতিক ঐক্য ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণের ভিত্তিতে; বাইরের কোনো শক্তিকেন্দ্রে নয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)