Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

উখিয়ায় পেশাদার চালক অপহরণ ও নির্যাতন মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী আটক

উখিয়া প্রতি‌নি‌ধিঃ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় পেশাদার গাড়িচালক কামাল উদ্দিনকে অপহরণ, মারধর, ছিনতাই ও মুক্তিপণের দাবিতে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া জিআর-২৯৮/২০২৬ (উখিয়া) মামলার এজাহারভুক্ত নামীয় আসামী রাকিবুল ইসলাম সৈকতকে আটক করেছে উখিয়া থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর উখিয়া থানায় কর্মরত এসআই অনুমন মারমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সৈকতকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে বিকেলে ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন তার ক্যান্সারে আক্রান্ত পিতার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে বাড়িতে ভিজানো সুপারি কুতুপালং বাজারে বিক্রি করেন। সুপারি বিক্রির ৫০ হাজার টাকা নিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কোটবাজার উত্তর স্টেশন তেচ্ছী ব্রিজ সংলগ্ন শাহ আলম চেয়ারম্যানের মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে।
এসময় ‘পালং সার্ভিস’ নামের একটি গাড়িতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে চোখ-মুখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। চলন্ত গাড়িতে তার পকেটে থাকা সুপারি বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, অপহরণকারীরা কামালের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাঠের লাঠি, বৈদ্যুতিক তার ও গাড়ির ফ্যানবেল্ট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে চোখ-মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায় তারা।
পরদিন ১৮ মে সন্ধ্যায় উখিয়া খাদ্য গুদাম সংলগ্ন ফুটবল মাঠের পাশে গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় কামাল উদ্দিনকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন।
চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামী করে উখিয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
এ বিষয়ে উখিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আলো‌কিত উখিয়া