পেকুয়া প্রতিনিধি:
হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের পেকুয়া ও দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোররাতে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে মাঠে থাকা উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন লবণ পানিতে মিশে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেকুয়া উপজেলার মগনামা, রাজাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা হতাশ দৃষ্টিতে প্লাস্টিক মোড়ানো লবণ মাঠের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতের বৃষ্টিতে জমাট বাঁধা সাদা সোনা খ্যাত লবণ গলে পানিতে মিশে গেছে। পাশাপাশি লবণ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা ‘বেড’ বা কাই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন লবণচাষীরা।
মগনামা শতঘোনা এলাকার লবণচাষী লিয়াকত আলী বলেন, ‘মৌসুমের শেষ সময়ে একটু বেশি লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছিলাম। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কয়েকশ মণ লবণ পানিতে মিশে গেছে। এখন আবার নতুন করে মাঠ তৈরি করতে হবে, যা অনেক ব্যয়বহুল।’
উজানটিয়া করিয়ারদ্বিয়া এলাকার লবণচাষী মনজুর আলম বলেন, ‘বাজারে লবণের দাম এমনিতেই কম। তার ওপর এই ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। ঋণ করে মাঠ নিয়েছি, এখন কীভাবে তা শোধ করব বুঝতে পারছি না।’
পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী, মগনামা, উজানটিয়া ও সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতি মৌসুমে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার ৫০০ একর জমিতে লবণ চাষ হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় এখান থেকে গড়ে ২.৫ থেকে ৩.৫ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়। বিসিকের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই বৃষ্টিতে পেকুয়া ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠের লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে চাষিদের অতিরিক্ত শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় করতে হবে। এতে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরো পড়ুন
পেকুয়ায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর আটক