নিজস্ব প্রতিবেদক
শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় এলাকায় দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুবকের হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ১৮ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শেরপুর সদর থানাধীন নতুন বাগলগড় গ্রামের মানিক মাস্টারের বাড়ির উত্তর পাশে সোহেল মিয়ার নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেতে একটি অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের পরিহিত ট্রাউজার ও জুতা দেখে মরদেহটি আল আমিনের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরবর্তীতে পিবিআই সদর দপ্তরের নির্দেশনায় পিবিআই জামালপুর ইউনিট তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ১৯ মে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জামালপুরের পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকার বাসিন্দা শুভ (১৯)কে শেরপুরের বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সহযোগী আসামি সম্রাট (২০)কে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, নিহত আল আমিনের সঙ্গে শুভর বোনকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়। শুভর বিধবা বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আল আমিনের। একপর্যায়ে আল আমিন শুভর কাছে তার বোনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে শুভ অপমানবোধ করে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়। গত ১৩ মে দুপুরে কৌশলে আল আমিনকে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আল আমিন মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকাকালে শুভ পেছন থেকে লাইলনের দড়ি গলায় পেঁচিয়ে ধরে। পরে সম্রাট নিহতের মাথা চেপে ধরলে শুভ ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে বলে তদন্তে জানা গেছে।
পিবিআই আরও জানায়, আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত শুভ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের মালিক শান্তও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
এ বিষয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পৃথক টিম গঠন করে ছায়াতদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও আভিযানিক দলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
উখিয়ায় মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ডে ক্যাম্প ও দীক্ষা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
উখিয়ায় সারের দামে নৈরাজ্যের অভিযোগ
উখিয়ায় Rab-এর অভিযানে ড্রামে লুকানো ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, নারী গ্রেফতার