সম্পাদকীয়
প্রতিদিন রক্ত দিতে হচ্ছে একজন সাংবাদিককে। এটা কোনো রূপক কথা নয়। এটি নির্মম বাস্তবতা।
Iqbal Faruk—দৈনিক Daily Amar Desh পত্রিকার সাংবাদিক—আজও হাসপাতালের বেডে লড়ছেন জীবনের জন্য। গত ২২ ফেব্রুয়ারি উত্তর হারবাংয়ে বালুদস্যু ও সন্ত্রাসী নাজিম এবং তার বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি প্রথমে চকরিয়া ও কক্সবাজারে চিকিৎসা নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখন তিনি ভর্তি আছেন Ibn Sina Hospital-এ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক Abdullah Al Faruk-এর তত্ত্বাবধানে ২৭টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসা চলছে। কিন্তু উন্নতি নেই। প্রতিদিন রক্ত দিতে হচ্ছে।
একজন সাংবাদিকের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। কিন্তু রাষ্ট্র কি দেখছে?
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রশ্নটি অন্য জায়গায়—
এখনো পর্যন্ত একজন আসামিও গ্রেপ্তার হয়নি।
যে হামলায় তিনজন সাংবাদিক রক্তাক্ত হয়েছেন, যে ঘটনায় দেশের গণমাধ্যম মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে, সেই ঘটনায় অভিযুক্তরা কি এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে? তারা কি এতটাই শক্তিশালী যে আইন তাদের স্পর্শ করতে পারে না?
সাংবাদিকরা কার জন্য কাজ করেন? জনগণের জন্য। সত্যের জন্য। সমাজের জন্য। আর সেই সত্য তুলে ধরতে গিয়েই যদি সাংবাদিকদের রক্ত দিতে হয়, তাহলে এটি শুধু একটি হামলার ঘটনা নয়। এটি সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
উত্তর হারবাংয়ের ঘটনাটি এখন একটি মানুষের কষ্টের গল্প নয়। এটি একটি রাষ্ট্রের বিবেকের পরীক্ষা। যেখানে একজন সাংবাদিক হাসপাতালের বেডে প্রতিদিন রক্ত নিচ্ছেন, আর অপরাধীরা যদি বাইরে ঘুরে বেড়ায়—তাহলে সেটি শুধু বিচারহীনতা নয়, সেটি ভয়ঙ্কর বার্তা।
বার্তা হলো—সত্য বললে মার খেতে হবে।
বার্তা হলো—ক্ষমতার সামনে আইন দুর্বল।
আমরা প্রতিশোধ চাই না। আমরা চাই আইন তার কাজ করুক।
এই হামলার বিচার হতে হবে। দ্রুত হতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে।
কারণ মনে রাখতে হবে— একজন সাংবাদিকের রক্ত শুধু একজন মানুষের রক্ত নয়। এটি সত্যের রক্ত। আর সত্যের রক্ত যদি ঝরতেই থাকে, তাহলে ইতিহাস একদিন কঠিন প্রশ্ন করবেই—
সেদিন রাষ্ট্র কোথায় ছিল? আইন কোথায় ছিল?
আর আমরা সবাই তখন কি করছিলাম?
নীরবতা কখনো সমাধান নয়।
এখন সময় জবাবদিহির।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
বালুর নামে লুট—রাষ্ট্রের কোষাগার কার জন্য?
মসজিদের পবিত্রতা বনাম উৎসবের পরিসর—সংযমই সমাধান
রামুতে দ্বিমুখী বাস্তবতা: মাদকবিরোধী সাফল্য, নাকি আস্থার গভীর সংকট?