আলোকিত রিপোর্ট:
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কোহিনুর আক্তারের মৃত্যুকে ঘিরে এখন নানা ব্যাখ্যা শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন এটি নিছক দুর্ঘটনা, আবার কেউ দেখছেন এর ভেতরে আরও গভীর রহস্যের ইঙ্গিত।
ঘটনার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে অনেকে বলছেন—মহিলাটি ৫ তলায় যাওয়ার জন্য লিফটে উঠেছিলেন। ভুলবশত তিনি ৪ তলায় নেমে যান। এরপর পুনরায় লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। তখন নাকি জোর করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই তিনি লিফট শাফটে পড়ে যান এবং মারা যান। এ সময় লিফট বক্স উপরের তলায় চলে যায়।
শুনতে ঘটনাটি যেন সিনেমার গল্পের মতো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—বাস্তবে কি এমনটি সম্ভব?
আধুনিক লিফট ব্যবস্থায় সাধারণত এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে যাতে লিফট ক্যাবিন সেই তলায় উপস্থিত না থাকলে দরজা খোলার সুযোগ থাকে না। আবার দরজা খোলা থাকলে লিফট চলাও সম্ভব হয় না। অর্থাৎ একজন মানুষ দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই নিচে পড়ে যাবে এবং একই সময় লিফট অন্য তলায় চলে যাবে—এমন ঘটনা সাধারণ অবস্থায় ঘটার কথা নয়।
তাহলে কি লিফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নষ্ট ছিল?
লিফট কি দীর্ঘদিন ধরে ত্রুটিযুক্ত ছিল?
নাকি সেখানে রক্ষণাবেক্ষণের মারাত্মক অবহেলা ছিল?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত “দুর্ঘটনা” শব্দটি উচ্চারণ করাই আসলে দায়িত্বহীনতা।
এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো—যদি সত্যিই তিনি লিফট শাফটে পড়ে মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে চার দিন ধরে হাসপাতালের ভেতরে তার মরদেহ পড়ে থাকল কীভাবে?
একটি সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করে। ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী—এত মানুষের উপস্থিতির মাঝেও একটি মরদেহ চার দিন ধরে অদেখা পড়ে থাকবে—এটা কি কোনোভাবেই স্বাভাবিক প্রশাসনিক বাস্তবতা?
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সিসিটিভি ফুটেজ।
মহিলাটি সত্যিই হাসপাতাল থেকে বের হয়েছিলেন কিনা, নাকি পুরো সময় তিনি হাসপাতালের ভেতরেই ছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তর সিসিটিভিই দিতে পারে।
এছাড়া লিফটের প্রযুক্তিগত রেকর্ড বা লগ পরীক্ষা করাও জরুরি।
ঘটনার সময় লিফট কোন তলায় ছিল, কখন কোথায় থেমেছে—এসব তথ্য লিফট সিস্টেমেই সংরক্ষিত থাকে।
সুতরাং এই মৃত্যুকে তড়িঘড়ি করে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এখানে প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত।
কারণ কোহিনুর আক্তার কেবল একজন ব্যক্তি নন। তিনি একজন মা, একজন স্ত্রী, একজন নাগরিক—যিনি চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে এসে আর জীবিত ফিরে যেতে পারেননি।
তার মৃত্যু যদি সত্যিই দুর্ঘটনা হয়, তবে সেটি কেন ঘটল তা জানতে হবে।
আর যদি এর পেছনে অবহেলা বা অন্য কোনো অপরাধ লুকিয়ে থাকে, তবে দায়ীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
মানুষ হাসপাতালকে শেষ আশ্রয় মনে করে। সেই আশ্রয়ের ভেতরেই যদি এমন রহস্যময় মৃত্যু ঘটে, তবে তা শুধু একটি পরিবারের শোক নয়—এটি পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
সত্য উদঘাটন এখন শুধু একটি তদন্তের বিষয় নয়, এটি মানুষের বিশ্বাস রক্ষারও প্রশ্ন।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
বালুর নামে লুট—রাষ্ট্রের কোষাগার কার জন্য?
মসজিদের পবিত্রতা বনাম উৎসবের পরিসর—সংযমই সমাধান
রামুতে দ্বিমুখী বাস্তবতা: মাদকবিরোধী সাফল্য, নাকি আস্থার গভীর সংকট?