সম্পাদকীয়
কুতুপালং আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রশ্ন উঠছে—এটি কি কেবল একটি বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে, নাকি অঘোষিতভাবে পুরো রাস্তা ইজারা দিয়ে দেওয়া হয়েছে? কারণ বাস্তব চিত্র বলছে, বাজারের সীমানা ছাড়িয়ে এখন জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা পর্যন্ত দখল হয়ে গেছে।
বাজার ইজারা একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সরকার নির্দিষ্ট জায়গা ইজারা দিয়ে রাজস্ব আয় করে, ব্যবসায়ীদের জন্য পরিবেশ নিশ্চিত করে। কিন্তু সেই ইজারার সীমা যদি বাজারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং রাস্তা, ফুটপাত, এমনকি যান চলাচলের পথ পর্যন্ত গ্রাস করে নেয়—তাহলে সেটি আর ইজারা নয়, সেটি দখলদারিত্বের বৈধতা দেওয়ার নামান্তর।
বর্তমানে কুতুপালং এলাকায় যা ঘটছে, তা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়—এটি একটি পরিকল্পিত নীরব দখল। স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু নেতার নেতৃত্বে হকারদের বসানো হচ্ছে রাস্তার উপর। ফলে সাধারণ মানুষ পড়ছে চরম ভোগান্তিতে। অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে জরুরি যানবাহন পর্যন্ত আটকে যাচ্ছে। প্রতিদিনের যানজট, ধুলাবালি, বিশৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে একটি মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিচ্ছে।
এখানে প্রশ্ন হলো—প্রশাসন কোথায়? ইজারার শর্ত কি শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ? যদি বাজার ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তার সুনির্দিষ্ট সীমানা কোথায়? আর সেই সীমানা লঙ্ঘন হলে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই দখলদারিত্ব যেন এক ধরনের “রাজনৈতিক আশ্রয়ে বাণিজ্য” হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে কিছু ব্যক্তি সুবিধা নিচ্ছে, আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ। জনস্বার্থ সেখানে উপেক্ষিত।
একটি সভ্য সমাজে রাস্তা সবার জন্য। এটি কোনো ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালানো যেমন আইনবিরোধী, তেমনি তা নাগরিক অধিকারেরও পরিপন্থী।
এখন সময় এসেছে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
প্রশাসনকে বলতে হবে—ইজারা কি বাজারের জন্য, নাকি রাস্তার জন্যও?
যদি বাজারের জন্য হয়, তাহলে রাস্তা অবিলম্বে দখলমুক্ত করতে হবে।
আর যদি নীরব সমর্থন থাকে, তবে সেটি প্রকাশ্যে স্বীকার করার সাহস দেখাতে হবে।
জনগণের প্রশ্ন খুব সহজ—
আমরা কি বাজারে যাচ্ছি, নাকি দখলকৃত এক অরাজক অঞ্চলে প্রবেশ করছি?
এই প্রশ্নের উত্তর এখন প্রশাসনের কাছেই।
আলোকিত উখিয়া
আরো পড়ুন
উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন, সভাপতি রিদুয়ানুর রহমান, সম্পাদক জিয়াউল করিম রিয়াদ
উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ খননকালে গ্যাসের উদগীরণ, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস
ইনানীতে পাঁচতলা ভবনে উচ্ছেদ অভিযান, মাঠে কউক ও উখিয়া প্রশাসন