নিজস্ব প্রতিবেদক | কক্সবাজার
কক্সবাজার সরকারি কলেজের দোলনচাঁপা মহিলা হোস্টেল থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় গণিত বিভাগের এক ছাত্রী শরীফাকে আটক করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রীর হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে শরীফা দাবি করেছেন, টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় থাকা তার এক আন্টি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো পাঠিয়েছিলেন। তবে ইয়াবাগুলোর প্রকৃত গন্তব্য কী ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আটক শরীফার খালা বেবী ও খালু এরশাদ ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। স্থানীয়দের দাবি, এরশাদ বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাস করছেন।
তবে স্থানীয়দের এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বেবী ও এরশাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এখন মূল প্রশ্ন, হোস্টেলে উদ্ধার হওয়া ২০ হাজার ইয়াবার উৎস কোথায়?
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা কুরিয়ারযোগে ইয়াবা পাঠানোর তথ্যের সঙ্গে স্থানীয়দের অভিযোগের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
যদি সত্যিই এর পেছনে কোনো মাদকচক্র থাকে, তাহলে সেই চক্রের মূল হোতা কারা? ইয়াবাগুলো কার কাছে যাওয়ার কথা ছিল? কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে কীভাবে এত বড় একটি চালান কলেজের হোস্টেল পর্যন্ত পৌঁছাল?
পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবার গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এখন অপেক্ষা তদন্তের ফলাফলের। একজন ছাত্রীকে আটকের মধ্যেই কি এই ঘটনার শেষ, নাকি তদন্তে বেরিয়ে আসবে ২০ হাজার ইয়াবার নেপথ্যে থাকা পুরো নেটওয়ার্ক?
তদন্তেই স্পষ্ট হোক প্রকৃত সত্য।

আরো পড়ুন
বগুড়ায় বাসে ৭৭৫ পিস ইয়াবা, রামুর আবুল কালাম গ্রেপ্তার
শিশুর পেটে ইয়াবা! ৮ হাজার টাকার লোভে ভয়ংকর মাদক পাচার
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রাণনাশের আশঙ্কা, উখিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি