স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) কর্তৃক দেশব্যাপী পরিচালিত তদন্তে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও সদর উপজেলার দুই শিক্ষকের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্ত এই দুই শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা বেতন-ভাতা (এমপিও) হিসেবে উত্তোলন করেছেন। সম্প্রতি ডিআইএ-এর প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং অবৈধভাবে উত্তোলিত টাকার সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।
তালিকার বিবরণ অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলা থেকে অভিযুক্ত প্রথম শিক্ষক হলেন জনাব মো. মোস্তফা কামাল (ক্রমিক নং-৩৭)। তিনি উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার)’ পদে কর্মরত আছেন, যার ইনডেক্স নম্বর ১০২৮০৯৭। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি ‘জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নেকটার)’ এর একটি ভুয়া ও জাল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি এ পর্যন্ত সরকারি কোষাগার থেকে সর্বমোট ২০,৯৭,৪৩০/- (বিশ লক্ষ সাতানব্বই হাজার চারশত ত্রিশ) টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করেছেন, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলায় চিহ্নিত দ্বিতীয় শিক্ষক হলেন ** can জনাব সুবীর দাস** (ক্রমিক নং-৩৮)। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার)’ হিসেবে কর্মরত, যার ইনডেক্স নম্বর ৩৩০৯৩৯৫। মোস্তফা কামালের মতোই সুবীর দাসের ‘জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নেকটার)’ এর কম্পিউটার সনদটি তদন্তে জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তিনি এ পর্যন্ত সরকারি তহবিল থেকে অবৈধভাবে ২৯,৬২,৮৩১/- (ঊনত্রিশ লক্ষ বাষট্টি হাজার আটশত একত্রিশ) টাকা বেতন-ভাতা বাবদ গ্রহণ করেছেন। এই টাকাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিআইএ-এর সংশ্লিষ্ট স্মারক ও প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সারা দেশের ৭৩৩ জন জাল সনদধারী শিক্ষকের অংশ হিসেবে এই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, অভিযুক্তদের এমপিও সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা এবং ফৌজদারি অপরাধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শিক্ষাদানের মতো একটি মহৎ পেশায় যুক্ত থেকে এই ধরণের নজিরবিহীন জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই অর্থ আদায় এবং জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
তেলখোলায় অবৈধ গরুর বাজার: ইজারাদারদের জোরপূর্বক অর্থ আদায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
সরকারি শর্ত লঙ্ঘন করে উখিয়া টিভি টাওয়ার সংলগ্ন সড়কেই বসছে পশুর হাট
চকরিয়ায় সশস্ত্র পাহারায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল, রাতারাতি গড়ে উঠছে অবৈধ বসতি