Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

টেকনাফে বনভূমিতে রাতারাতি পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং রেঞ্জের আওতাধীন শাপলাপুর বন বিট এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়ের পাদদেশে কাটাছড়া এলাকায় রাতারাতি ইটের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রবাসী ব্যক্তি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বনভূমির জমিতে এ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি শামলাপুর এলাকার শুকনা মাছ ব্যবসায়ী মোজাহেরুল ইসলামের মেয়ের জামাই।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, হোয়াইক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা মিনার চৌধুরী ও শাপলাপুর বন বিট কর্মকর্তা মাসুদের যোগসাজশে নির্মাণকাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, বিট কর্মকর্তা মাসুদ নগদ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। তবে রেঞ্জ কর্মকর্তা কত টাকা নিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এর আগেও একই এলাকায় ঘুষের বিনিময়ে একাধিক পাকা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে বনভূমি দখল ও পাহাড় ধ্বংসের আশঙ্কা বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কিছু কথিত সাংবাদিককে টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা চলছে। এতে পরিবেশ সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড় ও বনভূমিতে এভাবে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে এবং বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বন কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আ‌লো‌কিত উ‌খিয়া