Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

রাত পোহালেই পরীক্ষা: এখনো প্রবেশপত্র পায়নি ৬৫ পরীক্ষার্থী!

আলোকিত ডেস্ক রিপোর্ট:

রাত পোহালেই সারাদেশে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সাটিফিকের্ট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। অথচ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন ও গৃধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন পরীক্ষার্থী এখনো প্রবেশপত্র পায়নি। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

সোমবার (২০ মার্চ) রাত সোয়া ৯ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন। বিকেলে প্রতীকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) শরণাপন্ন হন জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

সূত্র জানায়, চলতি বছরে পলাশবাড়ীর জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ থেকে ৩৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে বলে ফরম পূরণ করে। কয়েকদিন আগে থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র সরবরাহ করলেও এই বিদ্যালয়ে করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা একাধিক দিন যোগাযোগ করলেও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা দেই-দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে আজ (সোমবার) দুপুর পর্যন্ত এডমিট আসেনি নিশ্চিত হয়ে শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে পলাশবাড়ী ইউএনওর দারস্থ হয়।

একই অবস্থা উপজেলার গৃধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়েও। এই বিদ্যালয়েরও ২৯ জন পরীক্ষার্থী এখনো পায়নি প্রবেশপত্র।

ইউএনওর কার্যালয়ে আসা পরীক্ষার্থী জুঁই জানান, আগামীকাল পরীক্ষা, অথচ আজ দুপুর গড়িয়ে বিকেল হচ্ছে, এখনো আমরা প্রবেশপত্র হাতে পাইনি। অন্যান্য স্কুলের সবাই অনেক আগেই প্রবেশপত্র হাতে পেয়েছে। আমরা কীভাবে পরীক্ষা দেবো?

সোহোল নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলে, কয়েকদিন আগে আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিনে স্যাররা প্রবেশপত্র দিতে চেয়েও দেন নাই। কাল পরীক্ষা, আজও বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রবেশপত্র পাইনি আমরা। না পেয়ে নিরুপায় হয়ে অভিভাকদের সঙে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী স্যারের কাছে এসেছি, আমরা পরীক্ষা দিতে চাই। কোনোভাবেই যেন আমরা বঞ্চিত না হই।

অভিভাবকরা জানান, কাল পরীক্ষা। এ সময় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করার কথা, সেখানে তারা উপজেলায় এসে পেরেশানিতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। অনিশ্চয়তায় আমাদেরও টেনশন হচ্ছে। তাদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে বাচ্চারা যাতে পরীক্ষা দিতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

জুনদহ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শাহ আলম সরকার বলেন, প্রবেশপত্র না পেয়ে এতগুলো শিক্ষার্থীর জীবন হুমকির মধ্যে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান সোহেলসহ বিশেষ করে অফিস সহকারী নাঈমের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এসব হয়ে থাকতে পারে।

বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন বলেন, সম্ভবত তারা (প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা) সময়মতো ফরম ফিলাপ (ফরম পূরণ) করেনি। এসবের দায় প্রতিষ্ঠান প্রধানকেই নিতে হবে। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কারণ জানতে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ করে কারণ দর্শানের নোটিশ দিয়েছি। উনি জবাব দিলে প্রকৃত বিষয় জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত (রাত ৯টা ১০ মিনিট) কোনো পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র পায়নি। তবে, ইউএনও স্যার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। আমরা আশাবাদী, যত রাতই হোক পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র হাতে পাবে।

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)