আলোকিত ডিজিটাল ডেস্ক:
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের তুলা উন্নয়ন বোর্ডে সরকারি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বিলের চেকে ঘষামাজা করে প্রায় ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ইউনিট অফিসার উতিংওয়াং মার্মাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এই নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সরকারি নথি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত উতিংওয়াং মার্মা ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অত্যন্ত চতুরতার সাথে এই জালিয়াতি চক্র পরিচালনা করেন। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন বিলের বিপরীতে ইস্যু করা চেকগুলো কৌশলে ঘষামাজা করে অংকের পরিবর্তন ঘটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। প্রাথমিক তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বাসা থেকে আত্মসাতকৃত অর্থের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে উতিংওয়াং মার্মা নিজের অপরাধ স্বীকার করে লিখিত জবানবন্দি প্রদান করেন এবং উদ্ধারকৃত অর্থ প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার ডিডিও (উদ্ধৃত্ত) হিসেবে জমা রাখা হয়।
এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ গত ৪ মার্চ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করে। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ তুলা উন্নয়ন বোর্ড থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন মৃধা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের শতভাগ সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অপরাধের গভীরতা বিবেচনায় তাঁকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে এই আর্থিক কেলেঙ্কারিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং আঙ্গুল উঠেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকেও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের এক কর্মচারী দাবি করেছেন, ব্যাংক লেনদেনের সময় এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবগত থাকার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা কেন যথাযথভাবে হয়নি তা রহস্যজনক। এর ফলে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার নজরদারি বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এছাড়া সজীব সরকার নামে অপর এক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও জনশ্রুতিতে রয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর থেকে অফিসের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকায় তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বান্দরবান তুলা উন্নয়ন বোর্ডের এই জালিয়াতি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। অভিযুক্ত উতিংওয়াং মার্মার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত শেষে দোষ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সাধারণ কর্মচারীদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের দাবিই এখন সর্বাগ্রে।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে থামছেই না মাদক পাচার, নৌপথে আসছে ৮০ শতাংশ