আলোকিত রিপোর্ট:
মায়ানমার থেকে কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ও হেরোইনের মতো ভয়ংকর মাদক দেশে ঢুকছে। সীমান্ত ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মোট মাদকের প্রায় ৮০ শতাংশ নৌপথে এবং ২০ শতাংশ স্থলপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বড় বড় চালান উদ্ধার হলেও পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। বরং পাচারকারীরা নতুন নতুন কৌশল ও পথ ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার অন্তত ২০টি সীমান্তপথ ইয়াবা পাচারের জন্য বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, বালুখালী, পালংখালী ও ঘুমধুমসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে এসব মাদক দেশে আনা হচ্ছে। পাচারে বাহক হিসেবে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
পাচারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মায়ানমারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ইয়াবা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। বিশেষ করে শান স্টেট থেকে ইয়াবার বড় চালান ইয়াংগুন ও আরাকান ঘুরে বাংলাদেশে আসে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজারের রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মায়ানমার-বাংলাদেশের ২৭২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে পাচারকারীরা নতুন কৌশল ব্যবহার করায় পুরোপুরি পাচার বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেষ্টনী নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রামু সেক্টরের অভিযানে ৫.২৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে এক কোটি ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ৯৯৩ পিস ইয়াবা, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৩১ কোটি ৭৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯০০ টাকা।
একই বছরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫) উদ্ধার করেছে ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পৃথক অভিযানে র্যাব উদ্ধার করেছে আরও আট লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১০ কেজি হেরোইন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা।
এ ছাড়া নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর কক্সবাজার সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানের গতি বেড়েছে। গত ১৮ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি চার দিনে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৫ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে নৌবাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে উদ্ধার করা হয় পাঁচ লাখ পিস ইয়াবা।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারের সঙ্গে বড় বড় গডফাদার জড়িত। তারা অর্থ ও সন্ত্রাসী শক্তির মাধ্যমে প্রতিরোধ ভেঙে দিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের কঠোর পদক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করতে আরও কয়েক মাস লাগবে
শামলাপুর মেরিন ড্রাইভে উপকূলীয় কলেজ স্থাপনের দাবি
টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৩৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১