আলোকিত রিপোর্ট:
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য অনুমোদিত লাল রঙ করা সিএনজিগুলো ক্যাম্পের বাইরে চলাচল করছে এমন অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব সিএনজি শুধুমাত্র নির্ধারিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে চলাচল করতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে সীমিত সময়ের জন্য জ্বালানি (গ্যাস) নেয়ার উদ্দেশ্যে বাইরে বের হতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এসব সিএনজি’র একটি অংশ নিয়ম ভেঙে ক্যাম্পের বাইরে এসে স্বাভাবিকভাবে যাত্রী পরিবহন করছে। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উখিয়া সদর স্টেশন এলাকায় এমন কয়েকটি লাল রঙ করা সিএনজি’র চলাচল দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ক্যাম্পের জন্য অনুমোদিত এসব সিএনজি প্রায়ই উখিয়া সদরসহ আশপাশের এলাকায় যাত্রী পরিবহন করে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরআরআরসি কার্যালয়ের অনুমোদনে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলাচলের জন্য মোট ৬০টি সিএনজি নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত তালিকায় গাড়ির মালিক ও চালকের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, নির্ধারিত ক্যাম্প এবং অনুমতির মেয়াদ উল্লেখ রয়েছে। অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী এসব সিএনজি’র মধ্যে রয়েছে মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আবুল কাশেম, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেনসহ আরও বেশ কয়েকজনের নামে সিএনজি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্পের জন্য দেয়া বিশেষ অনুমতি ব্যবহার করে কিছু সিএনজি বাইরে এসে বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করছে। এতে একদিকে নিয়ম লঙ্ঘন হচ্ছে, অন্যদিকে বিষয়টি তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এসব সিএনজি’র কিছু চালক ও মালিক নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে ক্যাম্পের বাইরে চলাচল করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্যাম্প ইনচার্জ ও এপিবিএন পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যকে মাসিক অর্থ দেয়ার মাধ্যমে তারা নির্বিঘ্নে বাইরে যাত্রী পরিবহন করে থাকে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, যদি এসব সিএনজি প্রকাশ্যে ক্যাম্পের বাইরে চলাচল করে, তাহলে বিষয়টি নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের অজানা থাকার কথা নয়। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
উখিয়া দারোগা বাজারে ময়লার স্তুপ: ইজারাদারের দায়িত্বহীনতায় জনদুর্ভোগ চরমে
উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
৬ বছরের মাইরা এখন কারাগারের বাসিন্দা: কিন্তু কেন?