উখিয়া প্রতিনিধি |
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রায় ১৩ দিন পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, বরং উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধেই মামলা নেওয়ার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শান্তমনি আক্তার। তিনি উখিয়ার বালুখালী এলাকার উত্তর রহমতের বিলের বাসিন্দা এবং থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ কয়েকজনের লালসার শিকার হন তিনি।
পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ না করে উল্টো ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নিয়েছে। ইতোমধ্যে এ মামলায় একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পরও শান্তমনির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতনের চিহ্ন এখনও স্পষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বিষয়টি উঠে আসে। তিনি জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার আত্মীয়ের জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে তার চেম্বারে এলে তিনি মেয়েটির শারীরিক অবস্থা দেখে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। একজন কিশোরী নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও কেন ন্যায়বিচার মিলছে না, কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এসব প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
একজন স্কুলছাত্রীর এই করুণ অবস্থা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। এখন দেখার বিষয়—এই ঘটনার বিচার হয়, নাকি প্রশ্নগুলোই থেকে যায় উত্তরহীন।
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
উখিয়া দারোগা বাজারে ময়লার স্তুপ: ইজারাদারের দায়িত্বহীনতায় জনদুর্ভোগ চরমে
উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
৬ বছরের মাইরা এখন কারাগারের বাসিন্দা: কিন্তু কেন?