উখিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের উখিয়ার ঘাট কাস্টম ও তেলীপাড়া এলাকার খালটি খননের পরও দূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৭ ও ৮ই থেকে প্রতিনিয়ত আসা বর্জ্যের কারণে খালটি আবারও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালটিতে বিভিন্ন ধরনের কঠিন ও তরল বর্জ্য জমে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা পরে উপচে পড়ে কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে। এতে জমিতে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরই তারা ফসলহানির মুখে পড়ছেন। ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়তে হচ্ছে তাদের। একই সঙ্গে দূষিত পানি ও জমে থাকা বর্জ্যের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে।

জানা গেছে, এর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বালুখালী-মধুরছড়া খাল সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। তবে সেই প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই পুনরায় খালটি বর্জ্যে ভরে যায়।
স্থানীয়দের মতে, শুধুমাত্র খাল খনন করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মনিটরিং নিশ্চিত না করলে এই সংকট অব্যাহত থাকবে।
সচেতন মহল বলছেন, উখিয়ার এই সমস্যা এখন আর শুধু পরিবেশগত নয়; এটি কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তাই খাল খননের পাশাপাশি সমন্বিত ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে, যাতে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন
উখিয়া দারোগা বাজারে ময়লার স্তুপ: ইজারাদারের দায়িত্বহীনতায় জনদুর্ভোগ চরমে
উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
৬ বছরের মাইরা এখন কারাগারের বাসিন্দা: কিন্তু কেন?