Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

আলোকিত উখিয়া

বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

থানায় বসবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সদর থানা হবে ‘জিরো কমপ্লেইন’: আইজিপি

আলোকিত ডেস্ক রিপোর্ট:

পুলিশের সঙ্গে জনগণের তৈরি হওয়া আস্থার সংকট দূর করতে দেশের প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, পুলিশ এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চায় যাতে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আইজিপি হিসেবে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি জানান, থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে থানায় কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ নিয়ে গেলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। এতে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পেতে পারেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমের গুণগত মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উগ্র মৌলবাদীদের উত্থান রোধে পুলিশের নজরদারি জোরদার থাকবে।

আইজিপি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে পুলিশকে নতুনভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, “বিগত সময়ে পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। জনআস্থা পুনরুদ্ধারে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। এজন্য জেলা সদরের থানাগুলোকে আমরা ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি সদর থানার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন একজন সার্কেল এএসপি। পুলিশের সেবার মান এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে থানায় আসা মানুষ সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যেতে পারেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে। পাশাপাশি পুলিশের রেসপন্স টাইমও সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার ওপর জোর দেন তিনি।

দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলেও উল্লেখ করেন আইজিপি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুলিশের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথাও জানান আইজিপি। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো দলীয় বিবেচনার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মামলা তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আরও আধুনিকীকরণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আইজিপি। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান তিনি।

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আইজিপি। তিনি বলেন, ঈদের সময় সড়ক, মহাসড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই বা দস্যুতা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। র‌্যাবও মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে পোশাক শিল্প খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সম্ভাব্য অসন্তোষ মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গার্মেন্টস কারখানা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং শ্রমিক নেতা, মালিক, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া উগ্র মৌলবাদীদের উত্থান রোধে পুলিশের নজরদারি জোরদার থাকবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশপ্রধান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি জনগণ রাষ্ট্রের মূল শক্তি। তাই আমরা সবসময় জনগণের পাশে থেকে তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। জনবান্ধব পুলিশ গড়তে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।”

আলোকিত উখিয়া