Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

উখিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ব্যবস্থাপনা সংকট: উন্নয়ন থমকে, মুসল্লীদের ক্ষোভ বাড়ছে

উখিয়া প্রতি‌নি‌ধিঃ
উখিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমে উঠেছে স্থানীয় মুসল্লী ও দাতাদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা কমিটির অধীনে মসজিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যার ফলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের পর গঠিত প্রথম কমিটির সময় তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালেহ আহমেদের নেতৃত্বে মসজিদের বেদখলকৃত জমি, দোকান ও কবরস্থানের জায়গা উদ্ধারের পাশাপাশি কিছু উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে কমিটির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও দাতাদের অনৈক্যের কারণে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চালু হওয়া হেফজ বিভাগ বন্ধ হয়ে যায়, যা এলাকাবাসীর জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমান প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অধীনে মসজিদের কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি না থাকায় হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে মসজিদের লেট্রিন ও প্রস্রাবখানার নাজুক অবস্থা মুসল্লীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টানা দুই রমজানে অনেকেই ইতিকাফে বসার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পরিবেশ না থাকায় তা করতে পারেননি।
মসজিদের কর্মচারীদের মাধ্যমে বারবার বিষয়গুলো অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। এদিকে মসজিদের নামে ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি অর্থ জমা থাকার পরও মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

প্রতি বছর বার্ষিক সভায় বিপুল পরিমাণ অনুদান সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুসল্লীরা। তাদের প্রশ্ন, “এটি কি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে?”

এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত মুসল্লীদের পক্ষ থেকে ১২ সমাজপতি ও ১৭ দাতার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে হেফজ বিভাগ পুনরায় চালু, মাদ্রাসার মানোন্নয়ন এবং স্যানিটেশন সমস্যার দ্রুত সমাধান করে মসজিদের পরিবেশ উন্নত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যথায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ যে কোনো সময় প্রকাশ্যে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

আলো‌কিত উখিয়া