উখিয়া প্রতিনিধিঃ
উখিয়া উপজেলার উত্তর হাজীরপাড়ায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি কালভার্টে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কালভার্টের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত কালভার্টটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় অনুপাতে সিমেন্ট ব্যবহার না করে এক বস্তা সিমেন্টের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ ব্যাগ বালি মিশিয়ে কাজ করা হয়েছে। ফলে কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল।
স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পটির অনুমোদনের প্রায় এক থেকে দেড় বছর অতিক্রম হলেও নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলছে। এরই মধ্যে কয়েক দফা গণমাধ্যমে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিনকে প্রায় এক মাস আগে টেলিফোনে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সামান্য বৃষ্টিতে নির্মাণাধীন কালভার্টের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। এতে স্থানীয়দের আশঙ্কা, পূর্ণাঙ্গ বর্ষা শুরু হলে পুরো স্থাপনাটিই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কালভার্টটি ভেঙে পড়লে হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মান ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে, যা সরকারের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
স্থানীয়রা অবিলম্বে প্রকল্পটির নির্মাণমান তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্মাণকাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও তদারকি কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায় ছিল? কাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি একটি কালভার্ট ভাঙনের মুখে পড়ে, তবে জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব কতটুকু নিশ্চিত?
আলোকিত উখিয়া

আরো পড়ুন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবী মহিলা ওয়ার্ডে ‘পুরুষ থাকে না’, ছবি বলছে ভিন্ন কথা!
উখিয়া উপজেলা শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় মাস্টার মোক্তার আহমদকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান
উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মহিলা ওয়ার্ড ও ডেলিভারি রুমে পুরুষদের অবাধ যাতায়াত, চরম উদ্বেগ