Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

​জাল সনদের অভিযোগ বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক: উখিয়ার শিক্ষক মোস্তফা কামালের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তালিকায় কম্পিউটার সনদ জাল প্রমাণিত হওয়া এবং ২০ লক্ষাধিক টাকা সরকারি বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশের বিপরীতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন উখিয়ার শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে অডিট আপত্তির দায় থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়েছে।

​মো. মোস্তফা কামাল তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, তিনি ২০০৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) হিসেবে সুনামের সাথে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ২০২০ সালে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ডিআইএ কর্তৃক একটি নিরীক্ষা (অডিট) কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে গত ২০ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ডিআইএ-এর পক্ষ থেকে ১৭৫৫ স্মারক নম্বরে একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

​বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, উক্ত অডিট রিপোর্টের প্রেক্ষিতে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, জেলা শিক্ষা অফিস এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মতামতসহ গত ১২ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বরাবর দফাওয়ারী ব্রডশীট জবাব দাখিল করা হয়। এই জবাবের সূত্র ধরে গত ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ত্রিপক্ষীয় সভার আয়োজন করে।

​মোস্তফা কামালের দাবি অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন কমিটির ৪৬তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে কর্তৃপক্ষ তাকে অডিট আপত্তির দায় হতে গত ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে সম্পূর্ণ অব্যাহতি (ক্লিয়ারেন্স) প্রদান করেছে।

​শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাবশত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও অনলাইন পোর্টালে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সাথে তিনি তার শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের এই ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

​তবে ডিআইএ-এর সাম্প্রতিক তালিকায় তার নাম ও অর্থ ফেরতের বিষয়টি কীভাবে বহাল রইলো—সে বিষয়ে শিক্ষা প্রশাসনের কোনো মন্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং শিক্ষকের সপক্ষে ব্রডশীট জবাব ও অব্যাহতির দাবির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে এখন নতুন করে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আ‌লো‌কিত উ‌খিয়া