Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

আলোকিত উখিয়া

ভুক্তভোগী দুই পরীক্ষার্থী জিহান ও রিহান।

বিজ্ঞান বিভাগের দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী পেল মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র

আালাকিত ডেস্ক রিপোর্ট:

যশোরের মণিরামপুরে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যালয়ের ভুলে মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র হাতে পেয়েছে ওই দুই সহোদর। এতে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ।

পরীক্ষার মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও এই জটিলতা নিরসন না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলো, মাছনা গ্রামের যমজ দুই ভাই জিহান ও রিহান। চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় তাদের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্কুল থেকে যখন তাদের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়, তখন দেখা যায় সেখানে বিভাগ হিসেবে ‘মানবিক’ উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি প্রায় এক সপ্তাহ আগেই প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনকে জানানো হয়েছিল। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি। উল্টো বৃহস্পতিবার সংশোধিত প্রবেশপত্র দিতে ব্যর্থ হয়ে মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্রই তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের এই চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আব্দুল মতিন। তিনি এই ঘটনার জন্য প্রধান শিক্ষকের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন।

অধ্যাপক আব্দুল মতিন জানান, প্রায় এক বছর আগেই রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিল। তখনই কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা উচিত ছিল।

প্রধান শিক্ষকের এই গাফিলতির জন্য তাকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, আগামী ২১ এপ্রিল পরীক্ষার আগেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের নির্ধারিত বিভাগেই পরীক্ষা দিতে পারবে।

পরীক্ষার আর মাত্র ৩ দিন বাকি। এমন পরিস্থিতিতে বিজ্ঞান বিভাগের প্রস্তুতি নেওয়া দুই ভাইয়ের ওপর দিয়ে মানসিক ধকল বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুই পরীক্ষার্থীর স্বজনরা। তারা জানান, বিষয়টি সময়মতো সমাধান না হলে এই দুই মেধাবীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তায় পড়বে।

বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন জানান,  এটা ভুল হয়েছে সেটা সংশোধনের চেষ্টা চলছে। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষা বোর্ড শেষ মুহূর্তে এই যান্ত্রিক ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দিতে পারে কি না।

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)