Daily Alokito Ukhiya

Online Edition of The Daily Alokito Ukhiya

সরকারি বরাদ্দ উধাও! উখিয়ায় প্রশিক্ষণ ভাতা নিয়ে বিতর্ক

বিশেষ প্রতিবেদক:

উখিয়ায় সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণকে ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে, তা শুধু টাকার অংক নয়, এটি আস্থার প্রশ্ন। কাগজে-কলমে নাস্তা ও খাবার ভাতা ৫৪০ টাকা, বাস্তবে হাতে এসেছে ৩৭০। উপকরণ বাবদ ৬০ টাকার বরাদ্দ, কিন্তু দেওয়া হয়েছে ১০ টাকার খাতা আর একটি কলম। প্রশিক্ষকের সম্মানি ১,২০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১,০০০ টাকা।

হিসাব বলছে, প্রতি শিক্ষক কম পেয়েছেন প্রায় ৪২০ টাকা। প্রায় ৪৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকের ক্ষেত্রে মোট ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। সংখ্যাটি বড় নয় বলে কেউ ভাবতে পারেন। কিন্তু শিক্ষা খাতে এক টাকাও কম দেওয়া মানে ভবিষ্যতের ওপর কাঁচি চালানো।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই কাটছাঁট কার নির্দেশে? কেন? বরাদ্দ কম এসেছে, নাকি মাঝপথে কোথাও থেমে গেছে? যদি প্রশাসনিক ত্রুটি হয়, তবে তা দ্রুত সংশোধনযোগ্য। আর যদি অনিয়ম হয়, তবে সেটি অপরাধ। দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া উপায় নেই।

উখিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ায়। সেখানে যদি বরাদ্দ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তবে শিক্ষকরা হতাশ হবেন। হতাশ শিক্ষক দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়।

ভুক্তভোগীরা উখিয়া সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন। এই দাবিকে অবহেলা করা উচিত হবে না। তদন্ত হোক নিরপেক্ষ, প্রকাশ হোক প্রকৃত হিসাব। দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর যদি অভিযোগ অসত্য হয়, তবে সেটিও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

সরকারি অর্থ জনগণের। এটি কারও ব্যক্তিগত দয়ার দান নয়। শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করা। উখিয়ার এই ঘটনার দ্রুত ও দৃশ্যমান সমাধান এখন সময়ের দাবি।

আলোকিত উখিয়া

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)